স্ক্রিনশট, কেচ্ছা, কেলেঙ্কারি ভরা এই ফেসবুকের থেকে ছুটি নিয়ে, মাঝে মাঝে চলে এসো 'অফ-পিরিয়ডে'

Copyright 2019© by Off-Period.  Built with  in India

  • অফ পিরিয়ড

কিছু কান্না রেখে যাবো হৃদয়ের অলিন্দে



আমি চলে যাবো পড়ন্ত বিকেলের এই রোদ ছেড়ে। এই পুকুর, মাছ, মাছরাঙ্গা, আম জাম, গাব আর সুপুরীগাছ গুলো পড়ে থাকবে। পুকুরের জলে তখনও বিকেলের রোদ এসে খেলা করবে, আর খুজবে আমাকে। আমারও খুব মন খারাপ করবে। তবুও বনচাড়ালের পাতারা নেচে চলবে নিজের খেয়ালে। পৃথিবীর আর পাঁচটা কাজকর্মও একই থাকবে। জামরুল গাছে জামরুল হবে, পাখিরা খাবে আর নষ্ট করবে। কেউ আর উঠবে না জামরুল গাছে।

জামরুল গাছ, তোমার মনখারাপ হবে?


আবার জীবন পেলে দেখতাম কাশ ভাঙ্গা ঢেউ। বেরং দেওয়ালে চাপা পড়ে গেছে জীবনের লেনদেন। আবার কখনও যদি হয়ে আসি আমি অন্য কেউ, তোমায় দেখবো ফের। শুকনো শিরায় জল কেঁদে যায় সারারাত ভর। টুপটাপ করে আয়ু খসে গেছে সন্ধ্যের মত। মরে যাওয়া খোয়াইটা আজও কি রেখেছে বালুচর!! জলের স্মৃতিরা আজও ঘুরে মরে অবিরত? আমায় বরং কালো বেদনার মত মনে রেখো।


তোমার হলদে জানালা খুলে রেখো। পৃথিবীর অনেক আমোদ রোদ মেখে গায়ে আমি প্রবাসী হয়ে আসবো। মুখোমুখি তোমার চোখ ভরে দিয়ে যাবো আমার একান্ত পলাতক গল্প। তোমাকে শোনাবো এক চঞ্চল দোতলা বাসের গল্প, যে বাসগুলো থামবে বলেও থামেনি কোনো স্টপেজে। যে গুলোতে ঘুরে ফিরে বড্ড দুলুনি হয়, সাকোটার এপারে দাঁড়িয়ে মনে হয় এ এক অন্য ডাকবিভাগ, ছোট ছোট পাখিরা ঠোঁটে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে চিঠিপত্র। সেই সময়, আকাশ ভিজিয়ে সূর্য অস্ত চলে গেছে। বসন্তের পলাশও ঝরে গেছে একে একে। দিনশেষে যখন তারা পোশট-অফিসের ছাদে ফিরে যাচ্ছে, দেখি বৃদ্ধ পোষ্টমাস্টার মানুষের চোখের জলের মতো সোনালী গমের দানা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।


মেঘে মেঘে ভেসে যায় তৃতীয় নয়ন

নিঝুম বৃক্ষের শীষ ছুঁয়ে ছুঁয়ে;

পাতা জুড়ে রয়ে গেছে অনন্ত অভিমান,

সেই সময়, আকাশ ভিজিয়ে সূর্য অস্ত চলে গেছে

বসন্তের পলাশও ঝরে গেছে একে একে;

এরকম সন্ধ্যেবেলা কেউ কেউ বাড়ির ঠিকানা হারিয়ে ফেলে;

বেপাড়ার ধারে একা গাছ

গাছের তলায় নীরবতা,

যতটুকু বাকি থাকে, তারও বেশি চলে যায় ঝিঁঝিঁর দখলে

চেতনার কনাগুলো তখনও হাতড়ে খোঁজে রূপকথা।



রাতের শেষ ট্রাম ভাঙ্গা স্বপ্ন নিয়ে রওনা দিল রোজকার মতন। এক ভবঘুরে পলাতক সুখ খুঁজতে রাস্তায় বেরোয়; পাঁচ মাথার মোড়ে এসে বিষন্ন সংশয়, যে নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে হন্যে হয়ে শূন্য হাতে ঘুরে মরা, অজ্ঞাতকুলশীল পালিয়ে বেড়ানো সেই ঘরছাড়াটাকে, ঠিকানাটা জানো যদি, দিও তো আমাকে।

কিশোরের হাত থেকে উড়ে যাচ্ছে দস্যি বেলুন

হাওয়া মিঠাই খেতে খেতে খুনসুটি করছে ওরা

বেলফুল-জুইফুল;

ভাসতে ভাসতে আমি পেরিয়ে যাবো সব...

আমার মন খারাপ খুব, কেন না এই শরতে

কোন গাঁয়ে কোন খাল-বিলে

তুমি ফুটতে চলে গেছো

আমাকে তার সন্ধান বলোনি।


আমি হিসেবি ছিলাম না কখনও, বেহিসেবি রাত জেগে জেগে ফুরিয়েছি জীবনের সমস্ত কিছু। আজ মুখ খুললেই তেড়ে আসবে সবাই। যদি এতটাই ক্ষোভ, তবে হিসেব দাও এই দীর্ঘ্য নীরবতার। আমি তো কোনো সংখ্যাই শিখিনি তোমার মতো। আমার কোনো ধারাপাত বই ছিলনা কখনও। মুখস্থ করিনি জীবনের সুদকষা। কিন্তু, কিছু কিছু স্বপ্নের হিসেব যদি বলো, তো রয়েই গেলো অমিমাংসিত। আমার জন্য কিছুই হয়নি, হলো না তোমার। যে বাধ্য করলো দাসত্বে, তুমি তাকেই পই পই করে বুঝিয়ে দিলে জীবনের সমস্ত দেনা পাওনা।


মাত্র এককাপ সময় হবে?

অথবা এক টেবিল চামচ?

আমার ছোট্ট একটা অনুগল্প আছে বলার...

এক গামলা সুখ

গ্লাস ভরা দুঃখ আছে

এক চিমটে কান্নাও পাবে।

শুধু এক চিমটে সময় দেবে গল্প শোনাবার?

এক রাজকন্যে কেমন করে গল্পবন্দী হয়ে গেলো!


এরপর জ্বর আসে, আরও একটু কুঁকড়ে যায় সাদাকালো সময়টা। কাটাছেঁড়ার কথা সবটা লেখা যায় না, কখনও তাপমাত্রার কথা সবটা তবু ভাষার কাছে থাকলে একটা স্বাচ্ছন্দ্য আসে, কাগজপত্রের কাছে থাকলে এভাবে কোলের ওপর আলগোছে ফেলে রাখা এক-আধটা কাঁচা শব্দ কখন যে পেকে ওঠে! উদ্বাস্তু শব্দটা বড়ো হতে হতে আর আঁটছে না খাতার পাতায়। আবার নতুন ক’রে তোমাদের তৈরি করতে হবে আমগাছের দেশ, প্রাচীন পুকুরপাড় আর নাম রাখতে হবে প্রফুল্লনগর, খলিসাকোটা, নব ব্যারাকপুর। কলকাতার লোকেরা তাদের গেঁয়ো বলবে…বলবে কলোনির লোক


সড়কযোজনার দিনে জানলায় কয়েকটা সংখ্যা এসে বসবে, ধারালো তারিখ এসে বসবে। এভাবে ন্যারেটিভ আর নন-ন্যারেটিভ স্ট্রাকচার খালি গুলিয়ে ফেলবে ভোটার কার্ডরা। গুলিয়ে যাবে একটা-দুটো সময়। ভাঙা আয়নাগুলোর কাঁচগুঁড়ো দিয়ে ঘুড়িসুতোর কড়া মাঞ্জা তৈরি হবে কখনও…


ছোট এক ডাকঘর, কিছু দিন কিছু রাত তাতে সঞ্চিত আছে...অপেক্ষা, অপেক্ষা কখন আমাকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছে, আমি নিজেই বুঝতে পারিনি! আমি সমুদ্রের কথা লিখি। অস্থির বালি আর শামুকের ব্যাকরণ...সেইখানে কোনও হাইফেন পড়েনি চোখে। সাদা সিস্টারের অ্যাপ্রনে পালক রেখে আসি, সোনাবউদির কথা এক্ষুনি মনে পড়ছে খুব...যারা সান্ধ্যআসরে পাশে এসে বসেছিল তাদের কথাও মনে পড়ছে খুব। আমারও তো যাবার সময় হল। যেতে গিয়েও জানলার বাইরে হাত পাতি। আকাশে মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে। শেষ সময়ে দু’-এক ফোঁটা হাতে কি পড়বে না?


ভেবেছিলাম, একদিন কথা হবে। কথা হবে সেইসব সময়ের সাথে, যাদের অপেক্ষা করে গলি-ঘুঁজি পার হয়ে, ইস্তেহারসমূহ চেখে শেষমেষ ঘরে ফিরে আসা।

অথচ এই যে রাজ্যজোড়া পরিণতি, এও কিছু আলাদা হয়ে দাঁড়ায়নি আমার পৃথিবী থেকে আজও। স্বল্প ঘুমের থেকে গভীর ঘুমের দিকে কিভাবে কেমন করে চলে যাচ্ছি যেন আমি দিনদিন, স্বপ্নের আশায়। স্বপ্ন, যেসব আমার অবচেতনের স্লেটে লিখে দেয় ইচ্ছেমত গান, ইচ্ছেমত প্রেম ও আদর। তোমাকে উদ্দেশ্যহীন ভালোবাসতে বাসতে শেষে রিং-টোনে ঘুম ভেঙে যায়। সিয়েস্টা ইন গ্রানাডা। পোশাকি শহরের সেই সিয়েস্টায় গভীর অসুখ বাজে, ভেসে আসে ঘুমের ভেতরে আর আমাকে টেনে নিয়ে আসে বাইরে কোথাও।


বাড়ির বাইরে তখন ফেরিওয়ালা, সবজিবিক্রেতা, কারও ঘরে সন্তান এসেছে বলে একদল হিজড়ে এসেছে। ভুল করে আমার গ্রিলে টোকা দেয় দূর্গা, আমি মুখ বার করতেই অদ্ভুত স্বরে বলে ওঠে… “কই গো, সোনারচাঁদ? বুকে করে আনো গো দিদি, প্রাণভরে আশীব্বাদ করি। কোলজুড়ে আলো হয়ে উঠুক…” ওদিকে জয়ন্তী তার ঘরটর মোছা সেরে বেরোচ্ছে আরেক বাড়ি যাবে। “অন্যবাড়ি দেখোগে যাও! এখানে কোনো কুচো নি!” দূর্গা হেসে বলে ” সে যা হোক গো দিদি, তোমারও কোল আলো হবে একদিন… আবার আসব দলবেঁধে” ।


সকালের কফির ধোঁয়া আমার ভীষণ প্রিয় ঋতু। যে ঋতুকে আমি ছেড়ে যেতে দিই না কখনও কোথাও। কিন্তু সেই ঋতুতে কোনো অন্য গন্ধ থাকেনা কখনও। খবরকাগজ থেকে লাফ দিয়ে কোলে পিঠে উঠে পড়ে কিছু কালো কালো মোটা অক্ষর, শব্দমালা, ভয় ও ভণিতা… মনে হয় সব যেন আশ্চর্য মাদারির খেলা। এই কোল আলো করে কারও ঘরে আসা, এ’ব্যাপারটা আমার কাছে চিরদিনই খুব উজ্জ্বল একটা মায়ার প্রতিচ্ছবি, যে মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মানুষের সারা জীবন কেটে যেতে পারে। অথচ মৃত্যু এক অমোঘ সত্যি, যে সত্যিকে আমি সবথেকে কাছ থেকে দেখেছি কয়েকমাস আগে। হারিয়েছি সেই মানুষটাকে যে আমার প্রাণশক্তির উৎস ছিল – আমার বাবাকে। আর তারপর থেকে মৃত্যুকে সহ্য করা আমার কাছে যতটা কঠিন, ততটাই সহজ হয়ে গেছে।


কিছুদিন আগে একটি প্রাণবন্ত ছেলে মারা গেল, তারও আগে একটি মেয়ে ধর্ষিতা হওয়ার পরে পাশবিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে জীবনযুদ্ধ থেকে আদিগন্ত ছুটি নিয়ে চলে গেলো। কেউ বললেন “ঘোর কলিযুগ” , কেউ বললেন ” অত্যন্ত অন্যায়”, কেউ কেউ জোটবেঁধে প্রতিবাদ করলেন, কর্তৃপক্ষ বললেন ” আটকানোর ক্ষমতা ছিল না”, কেউ খুব একলা ঘরে কাঁদলো, কেউ শ্মশানযাত্রী হলো… ধূমধাম করে তাদের দাহ করা হলো সর্বসমক্ষে, আর কেউ ভুলে গেলো দিন আনা দিন খাওয়ায়।


ভেবেছিলাম, একদিন কথা হবে। কথা হবে সেইসব সময়ের সাথে, যাদের অপেক্ষা করে গলি-ঘুঁজি পার হয়ে, ইস্তেহার সমূহ চেখে শেষমেষ ঘরে ফিরে আসা। অপেক্ষার আপাতত কোনো পাড় আমি খুঁজে পাচ্ছিনা…


দুপুরগুলো সুন্দর বিদায় নিয়েছে; এইসব দুপুর, অবসন্ন ভাতঘুম মাখা প্রেম বিদায় নিয়েছে দেরাজের অন্ধকোনে বিলীনপ্রায় ঘ্রাণ রেখে। এইসব দারুণ দুপুর ছবি হয়ে গেছে।

বিকেলে গড়িয়ে নামে তরল অন্ধকার ; ফোটা ফোটা তরল আধাঁর এসে জমা হয় পানপাত্রে, পানপাত্রের গায়ে জমে হৃদয়ের হিম ; কুয়াশা। আবহে বাজে ঘরছাড়ানিয়া মন্দিরার ধূন , অথচ তার বুকের ভেতর তরল আগুন।


বিফল জনম গেল বধু, পানপাত্র সম্মুখে রাখি তৃষায় পুড়ি শুধু।

সন্ধ্যায়

এইসব দীপান্বিতা সন্ধ্যা অতলান্তিক,

স্মারক ডাকটিকেটের মতো দুর্লভ ছায়াস্মৃতি ; এবং

মাছের চোখে মৃত সময় দেখে যাই।

আর কক্ষচ্যুত নক্ষত্রের মতো নিজের চারিপাশে অবিরাম পাক খাই।


শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে হাওয়া, হাওয়া ধরে চড়ুইপাখি; কেউ জানতেই পারল না বুকের ডানদিকে কারফিউ রেখে গেল কফি রঙের ফিঙে মেঘ। থেকে যাও বিজন, থেকে যাও। নেশা ধরে ধরে তোমার বায়বী সুড়ঙ্গে। আর কেউ কি কাঁদছে নক্ষত্রের দিকে যাবে বলে?


যে শহরে তোমার বাস, সেই মাটির ঘ্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকি আমি প্রতিদিন, অথচ তোমার শহরের বাতাস দূষিত পেট্রোল-ডিজেলে, হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে চাটাই পেতে শুয়ে থাকা শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণায় কাতর রোগী; বৃষ্টির দিনে হাটু-জল কাদায় ডাষ্টবিনের ময়লা ভাসতে থাকে, একবেলা খাদ্য জোটেনা যে শহরে, যে শহরকে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে একটুকু সুখের খোঁজ করতে, কেবল ওই শহরে তুমি থাকো বলেই এখনও আমি ভালোবাসি। এখনও আমি ওই মাটির বুকের অস্বচ্ছ ঘ্রাণে আচ্ছন্ন হই!

আমিও এক দিন মানুষের হৃদয়ের ব্যাথা হব, দুজনের না বলা কথা হব। দু ফোঁটা চোখের জলে হব বর্ণহীন। তাহাদের মত আমিও এক দিন নিঃশব্দে একাকিনী শিশিরের মত একান্তে, বড় একান্তে ঝরে যাব।


যদি তার সাথে আরও একটু ভালোবাসা বাকি থাকে

তবে তার কাছে ফিরে যাওয়ার কোন চোরা পথ;

অথবা তার ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা আছে নিশ্চয়!

এমনও তো হতে পারে

কোন এক সোনালি আলোর ভোরে

অথবা গভীর রাতের আঁধারে

বালিশে কান্নার দাগ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই,

কারো ইতস্তত স্পর্শে ঘুম ভেঙ্গে গেলো তোমার,

আড়মোড়া ভেঙ্গে চোখে নেমে এল অপার বিস্ময়!


ঠোঁটের আড়ষ্টতায় শব্দ, শব্দের আড়ষ্টতায় ঠোঁট!

ঠিক সেই খানে, খুঁজে পেলে জীবনের অন্য কোন মানে

সে তোমার আরাধনা, সেতো বিধাতাও জানে!


প্রশ্ন কর তারে- কেন এতটা প্রহর ভেঙ্গে সেই তুমি এলে!

উত্তর পাবে- তুমি আমায় প্রতিটি প্রহর চেয়ে ছিলে বলে।


কিছু কান্না রেখে যাবো হৃদয়ের অলিন্দে। হয়তো সুর বলে ভুল করবে। এমন সুর যা কেউ কখনও স্পর্শ করেনি, যে মোচড়ে ব্রম্ভান্ড থেকে তারিফ ঝরে, তাকিয়ে দেখো...রূপালি আলো...আমার চূর্ণ বিচুর।স্বপ্নপাত। গভীর ধ্যানের শেষে বড় বাস্তব হয়ে থাকে যেসব প্রশ্নের উত্তর কেউ পায়নি কখনও।।