স্ক্রিনশট, কেচ্ছা, কেলেঙ্কারি ভরা এই ফেসবুকের থেকে ছুটি নিয়ে, মাঝে মাঝে চলে এসো 'অফ-পিরিয়ডে'

Copyright 2019© by Off-Period.  Built with  in India

  • অফ পিরিয়ড

এক সুখের গল্প কিংবা




সে ছিল এক ডিসেম্বরের শীতের রাত। মন্থর গতীতে একটা ট্রাম চলে যায় সামনে দিয়ে। পাঁচ মিনিটের ঘন্টা বাজছিল। দশটা পঞ্চান্ন। জানালা থেকে টুপটাপ খসে পড়েছে কচি মুখগুলি। মনে পড়ে, বড় বিষাদময় এই ঘন্টার শব্দ। বড় স্টেশান থেকে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার আগে যেমন বাজে। ভিড় আলগা হয়ে যাচ্ছে চারদিকে। অস্তিত্ব থেকে খসে যাচ্ছে চেনা, প্রিয় মানুষেরা... ট্রেন ছাড়তে আর দেরি নেই। 


তোমার চোখের আলো আমাকে শান্ত হতে বলে

হে বুদ্ধ, তোমার কথা লিখে রাখি...

এই জটিলতা, এই শহর, আগুন, ছদ্মবেশ;

এই মিথ্যে ভালোবাসা

আমাকে সরায় আজ কিছুদুরে; যেখানে তোমার এই হাসি মুখ বলে

শীতের রোদের মত বাঁচো।


অপরাহ্নে উঠোনে এক-একদিন একটা অদ্ভুত আলো এসে পড়ে। শালিখের পায়ের মত হলুদ সে রঙ। পাঁচিলের ছায়া তুলসিমঞ্চ ছাড়িয়ে অর্দ্ধেক উঠোন পর্যন্ত চলে যায়। পেয়ারা গাছে ফিরে আসে পাখির ঝাঁক। সেই অলৌকিক হলুদ আলো-আঁধারিতে মা কুঁজো হয়ে উঠোন ঝাঁট দেয়, বিড়বিড় করে কি যেন কথা বলে নিজের সাথে। ঝাঁট দেওয়া শেষ হলে মা ঘটি থেকে জলছড়া ছিটিয়ে দেয় সারা উঠোন। তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালায়, শাঁখ বাজায়। ঠিক সেই সময়ে দূরে কোথাও বাচ্চা ছেলেদের খেলা ভাঙ্গে; তাদের হাসি চিৎকারের শব্দ ভেসে আসে। আর তখন, চোখের সামনে লেগে থাকা স্বল্পস্থায়ী হলুদ আলোটি মুছে যায়। কোথা থেকে উঠোনে এসে পড়ে বিষন্ন সব ছায়া আর ছায়া। ভেজা মাটির গন্ধ মন্থর বাতাসে ভারি হয়ে ওঠে। অপরাহ্নের নিঃশেষ আলোয়  দীর্ঘ্য গাঢ় ছায়ার দিকে চেয়ে থেকে বহুদুরের এক নিঃস্তব্ধতার কন্ঠ শোনা যায়। ছোট্ট উঠোনটায় শব্দহীন ভাবে শেষ হয়ে যায় একটি দিন। দিন যায়। মহা মূল্যবান এক একটি দিন। 


আবার চলেছি আমি কোথাও, ঠিকানা নেই শুধু এক ইশারা রয়েছে...

ভুতের মত এই বেঁচে থাক আর পোষাচ্ছে না;

তুমি জানো আমার আত্মার গন্ধ,

আজ আরও সাদা হাওয়া, আজ আরও ভেসে ভেসে চলেছি

শুধু তোমারই দিকে।


দুপুরের রোদ মরে অপরাহ্নের ছায়াগুলি দীর্ঘ্যতর হয়েছে। সেইসব ছায়া ভাঙ্গা জানালা, দরজা, থাম, খিলান এবং উদ্ভিদের।  সেই ছায়া এবং আলোর মাঝখানে ভেলভেটের প্যান্ট, পরিষ্কার জামা, সাদা মোজা আর কালো জুতো পরা একটি কিশোর ছেলে - যে মাঝে মাঝে দুরবর্তী এক কালো নদীকে বয়ে যেতে অনুভব করে; অনুভব করে পৃথিবীর গভীর বিচ্ছেদ এবং আনন্দগুলি। অনুভব করে কাছেই কোথাও লুকোনো আছে এক গোপন দরজা - যার ওপারে আর এক জগৎ। সেই ছেলেটি অপরাহ্নের ম্লান আলোয় হঠাৎ দাদুর জন্য, মাখন-কাকার জন্য, ঘরছাড়া জ্যাঠামশাইয়ের জন্য, কিংবা এই পুরোনো দেওয়াল দুটির জন্য, হয়তো বা কবেকার দুর্ভিক্ষে পীড়িত এক রোগা উদ্যত লাঠি হাতে ভিখিরির জন্য, নিজের জন্য এবং হয়তো বা পৃথিবীর আমোঘ পরিবর্তনশীলতার জন্য আদিগন্ত এক দুঃখকে অনুভব করতে করতে ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসে। দুটি হাত রাখে দেওয়ালের খাঁজে। তার মাথায়, কাধে ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ে জরাজীর্ণ দেওয়ালের চুনবালি। সে কেঁপে কেঁপে কাঁদে তার অকারন গোপন কান্না।


তার সেই কান্নার মধ্যে ছিল ছুচের মতো ছোট্ট একটু সুখ। 

দুই দীর্ঘ্যশ্বাসের মধ্যিখানে, মৃত্যু

আমি তোমাকে জন্মাতে দেখেছি...