স্ক্রিনশট, কেচ্ছা, কেলেঙ্কারি ভরা এই ফেসবুকের থেকে ছুটি নিয়ে, মাঝে মাঝে চলে এসো 'অফ-পিরিয়ডে'

Copyright 2019© by Off-Period.  Built with  in India

অফ-পিরিয়ড

একবিংশ শতকের শুরুর দিকেও আমাদের কিছু মধ্যবিত্ত সাধ এবং একটা মধ্যবিত্ত ছাদ এই দুটোই ছিল। তখন প্রবল গরমের দিনে ছাদে খালি গায়ে উঠে পাশের বাড়ির রান্না-ঘরের দিকে চোখ চলে যেত কিছু কিছু দাম্পত্য জীবনে চাকুরি-বাবুদের। দু-একটা পাড়ার মোড়ে নিজেদের আজীবন সঙ্গীত সাধনাকে অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা চালাতো কিছু চির-খুকুর গলা। অদ্ভুত, তাদের মুখ দেখা যেত না, খালি সারে গা মা হারমোনিয়ামের আওয়াজ এবং তৎসংক্রান্ত প্রতিক্রিয়ায় কিছু পাড়ারা খ্যাপাটে ছেলের গালাগাল শোনা যেত।


একবিংশ শতকের শুরুর দিকেও অনেকে সস্তা প্রেম করেছে ফ্রি পার্কের বেঞ্চে বসে। তাদের আশা ছিল একদিন তাদের নিজস্ব একটা বিছানা হবে। তখনও কেউ কেউ ফোন নিয়ে ঘেঁটে দেখেছে যে পাড়াতুতো বোনেদের সঙ্গে ঠিক কতটা অবধি রসিকতা করা যায়। তখন আমাদের অনেকে বিল গেটস এবং অনেকে রুপম ইসলাম হওয়ার সাধ রাখতাম। একটু বড় সাধ হলে অনেকে আচমকা কয়েকটা ঝরঝরে পদ্য লিখে ইশকুলের পত্রিকায় ছাপিয়ে কবি হয়ে যেত। তাদের দিকে মেয়েরা মুগ্ধ চোখে তাকালেও আমাদের কাছে যে নিন্দে করেনি এমন নয়। তখন সুন্দরী মেয়ের বাড়ির খোঁজ পাওয়া এক জাতিয় উৎসব ছিল। আমার এক বন্ধু নাকি সেই খোঁজে নারকেল গাছে উত্তরণ করে পরের দিন ভাঙা হাত নিয়ে ইশকুলে এসেছিল।

 

একবিংশ শতকের প্রথম দিকে আমাদের সকলের ছিল একটা মধ্যবিত্ত স্বপ্ন এবং একটা নিম্নবিত্ত  আইসক্রিম-ওয়ালা। অতো রাজনীতি সচেতন ভাবে আমরা কথা বলতে শিখিনি বরং যার তার পাড়ায় গিয়ে খেপ খেলে এসেছি। যার তার বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছি বন্ধুদের জন্য। লোড শেডিং এ খবর নিতে গেছি পাড়ার ট্রান্সফরমারে কে উঠে লাইনটা জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। দু’একটা কেচ্ছা যে অহেতুক আমরাও করিনি এমন হলফ করে বলতে পারি না। শাহরুখ খান তখন অন্তত এমন সিনেমা করতেন যা পঁচিশ মিনিট বসে দেখা যায়। বহুদিন পর টিভিতে দাদার কীর্তি দেখতে বসতো সকলে অথবা ‘সাহেবের’ কিডনির জন্য হা হুতাশ করতো বাবা।তখন তাপস পালের মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল। তখন তাপস পাল কেবল সিনেমাতেই নানা খাজা কথা বলতেন। আমাদের সকলের সেসব মধ্যবিত্ত সাধগুলো কেমন যেন বসতবাড়ির মতো ভেঙে গেলো। আমরা সকলে ফেসবুক হয়ে গেলাম। আমরা সকলে কেমন যেন একটা হিটলার হয়ে নিজেদের ফ্যাসিস্ট বানী লিখতে শুরু করলাম ফেসবুকে।গাছগুলো মানুষ হতে পারলো না,তবে গাছের মতো মানুষেরা হারিয়ে গেলো। তার সাথে হারিয়ে গেলো আমার ছাদের মাদুরটা। সেইসব হারিয়ে যাওয়া গল্পদের নিয়ে এই ব্লগ। 

যেখানে আমাদের পদচারণ অভিশাপে মুছে গেছে সে—পথ ফেরত চাইনি,

চেয়েছি খুব করে উদাস আঙুলের ভাঁজে লুকিয়ে যেতে, বিম্বাধরে আকুলতা মাখাতে,

তোমার চুলের অন্ধকারে ডুবে যেতে, দিশেহারা হতে।

আকাশপট রেখে গেলাম, দুঃখ এঁকে দিও নীলে।

আমি অপেক্ষায় থাকবো নীল বারি বর্ষণে।